কেশপুর,১১ আগস্ট, ২০২৬ (ইউটিএন)। এবার খুলবে ‘কেশপুর ফাইলস’। কেশপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল আমলে বিজেপি কর্মীদের উপর ‘অত্যাচার’ এবং রাজনৈতিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, একটা সময় ‘নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার কারণেও বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হত। সভামঞ্চ থেকে এই সমস্ত ঘটনার তদন্ত ও পুরনো মামলাগুলি খতিয়ে দেখার বার্তাও দেন তিনি।
মঙ্গলবার শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনীতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর কেশপুরে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কেশপুরের রাজনৈতিক হিংসা ও বিজেপি কর্মীদের উপর কথিত অত্যাচারের প্রসঙ্গ। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নানা ভাবে ভয় দেখানো ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, কেশপুরের সেই ‘অন্ধকার অধ্যায়’-এর নথি এবার সামনে আনা হবে।
‘২০২৪ সালে আমাকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল’
সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ২০২৪ সালে কেশপুরে তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জেলার পুলিশ সুপারকে পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, অতীতের রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মামলা এবং বিরোধী কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগকে নতুন করে প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার আওতায় আনা হতে পারে। এখান থেকেই ‘কেশপুর ফাইলস’ খোলার ইঙ্গিত দেন তিনি।
ক্ষুদিরামের জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা, উন্নয়নের বার্তাও
এদিনের কর্মসূচির শুরুতেই শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিবিজড়িত মোহবনী গ্রামে যান মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।
সম্প্রতি কেশপুরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস এবং তাঁদের যথাযথ সম্মানের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার মতো বিপ্লবীদের ইতিহাসকে শিক্ষার পরিসরে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
এরপর কেশপুরের সভামঞ্চ থেকে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা কেশপুরে প্রশাসনিক নজরদারি এবং উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে কেশপুরে
কেশপুর বরাবরই পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। অতীতে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও দলীয় কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘কেশপুর ফাইলস’ প্রসঙ্গ সেই পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতে যেসব অভিযোগ, মামলা বা রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরব হয়েছিল, সেগুলির কতটা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুভেন্দুর তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার। কেশপুরের মাটিতে ক্ষুদিরাম স্মরণ থেকে ‘কেশপুর ফাইলস’—একই মঞ্চ থেকে ইতিহাস, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অতীত—তিনটি ইস্যুকেই সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

